সিবিএন ডেস্ক;
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বগুড়ায় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে আপাতত তার মুক্তির কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
সোমবার (৮ জুন) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে জামিন প্রদান করেন। পরে ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক বদির জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ দেন এবং বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। পরবর্তীতে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি শেষে জামিন স্থগিতের আদেশ বহাল রাখা হয়।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বগুড়ায় ব্যাপক সহিংসতা ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আবদুর রহমান বদিসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে তাকে সহিংসতার অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) আবদুর রহমান বদিকে গ্রেফতার করে। সে সময় র্যাব জানায়, টেকনাফে দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে বগুড়ার সহিংসতা ও অর্থ জোগানের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
আবদুর রহমান বদি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এদিকে, সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে টেকনাফে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আবদুর রহমান বদিকে প্রধান আসামি করে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় মামলাটি করেন। ওই মামলায় টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আহমেদসহ অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৭০ জনকে আসামি করা হয়।
